নোটিশ ::
আমাদের সকল প্রিমিয়াম থিমের উপর চলছে ৩৫% মূল্য ছাড় ( শর্ত সাপেক্ষ্য)। তাই আপনার পছন্দের থিমটি ক্রয় করতে যোগাযোগ করুন ০১৯১৩-৬৮৩৭৮৭
  • ০১৯১৩-৬৮৩৭৮৭
  • ntctcitacademy@gmail.com
  • হাজীপাড়া, সুনামগঞ্জ
ভিটামিন ডির স্বল্পতা এবং এর সঙ্গে কোভিড-১৯–এর সম্পর্ক

ভিটামিন ডি আমাদের হাড় ও মাংসপেশির উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সূর্যের আলোয় এসেই আমরা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি করে নিতে পারি। দৈনন্দিন খাবারের মধ্যেও পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি রয়েছে। যেমন: তেলযুক্ত মাছ, ডিম, লিভার ইত্যাদি। কিন্তু যাঁরা এসব খেতে পান না বা বাইরে নিয়মিত সূর্যের আলোয় যেতে পারেন না, যাঁদের কোনো ধরনের ক্রনিক অসুখ (যেমন: ক্যানসার, ফুসফুসের অসুখ) আছে, যাঁরা সিগারেট খান, যাঁরা স্থূল এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাঁদের রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ সঠিক মাত্রার চেয়ে কম থাকতে পারে।

আপনারা নিশ্চয়ই এর মধ্যেই জেনেছেন যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকির তালিকায় সবচেয়ে ওপরে রয়েছেন ‘বয়স্ক’ মানুষ। কিন্তু কেন তাঁদের এ রকম হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কোমরবিডিটি আরেকটা কারণ। যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বেশি ওজন।

কিন্তু দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে এই প্রো-ইনফ্লামেটরি ইমিউন সিস্টেম বেশি শক্তি অর্জন করতে থাকে, তার ফলে বয়স্ক মানুষের শরীরে একধরনের লো লেভেল ইনফ্লামেশন চলতেই থাকে। এর থেকেই নানা ধরনের ক্রনিক অসুখ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে যদি ইনফেকশন হয়, তাহলে একজন অল্পবয়স্ক মানুষের শরীর যেমন সফল ইমিউন রিয়াক্সন তৈরি করে, একজন বয়স্ক মানুষ সে রকম কার্যকর ইমিউন রিয়াক্সন তৈরি করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ভিটামিন ডি একটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি পরীক্ষিতভাবে প্রো-ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন উৎপাদনে বাধা দেয়, অ্যান্টি–ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন উৎপাদনে সাহায্য করে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত প্রো-ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইন তৈরি হাওয়া (এটিকে সাইটোকাইন স্টর্ম বলে), ভিটামিন ডি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

প্রায় ১৯ হাজার বয়স্ক মানুষের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যদি বয়স্ক মানুষের রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ কম থাকে, তাহলে তাঁদের শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণের (বুকে ইনফেকশন) পরিমাণ বেড়ে যায়। একাধিক কেস-কন্ট্রোল স্টাডিতে দেখানো হয়েছে, সেসব রোগীর রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ কম আছে, তাদের যদি ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়, তাহলে তাদের বুকে ইনফেকশনের মাত্রা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরিমাণ কমে আসে।

সাম্প্রতিক করা এটি বড় ধরনের সমীক্ষা, যেখানে ১৫টি দেশের ১১ হাজার মানুষের ওপর করা পরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত এক করা হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট মানুষকে সর্দি, জ্বর এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে যাদের ভিটামিন ডির স্বল্পতা ছিল, এই সাপ্লিমেন্ট তাদের ক্ষেত্রে বুকে ইনফেকশন হওয়ার চান্স শতকরা ৬০ ভাগ থেকে ৩০ ভাগে নামিয়ে নিয়ে এসেছিল। ২০১৯ সালে আরেকটি সমীক্ষায় ২১ হাজার পেশেন্টের ওপর করা পরীক্ষায় দেখানো হয়েছে, যাদের রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ কম থাকে, তাদের সর্দি–জ্বর থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার চান্স ৬৪ শতাংশ বেশি থাকে। এই পরীক্ষাগুলোয় স্পষ্টই প্রমাণিত হয়েছে, ভিটামিন ডি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। করোনায় আক্রান্ত একজন বয়স্ক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির মূল কারণ হচ্ছে এই শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ (একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন)।

বিশ্বের সব দেশেই বয়স্ক মানুষের শরীরে ভিটামিন ডির স্বল্পতা পাওয়া যায়। শীতের দেশে এই স্বল্পতার পরিমাণ আরও বেশি, এখানে বয়স্ক মানুষের রক্তে শীতকালে ভিটামিন ডির মাত্রা গ্রীষ্মকালের থেকে কমে আসে। এর মূল কারণ সূর্যের আলো। যেমন আয়ারল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্কদের (৫৫+) মধ্যে প্রতি আট জনে একজন ভিটামিন ডির স্বল্পতায় ভোগে, কিন্তু যদি বয়স্ক মানুষ (৭০–এর ওপরে) ধরা হয়, তাহলে শীতকালে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতি পাঁচ জনে একজন। সে জন্য এ দেশে যাদের ভিটামিন ডির স্বল্পতা আছে, তাদের প্রতিদিন ৪০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে বলা হয়েছে। ৫৫ বছরের ওপরে যাঁদের স্বল্পতা আছে, তাঁদের ৬০০ থেকে ৮০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে বলা হয়েছে।

আশঙ্কার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে ষাটোর্ধ্ব মানুষের রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ কত, তা জানার জন্য কোনো স্টাডি আমার চোখে পড়েনি। উপরন্তু, গত বছর বারডেমে প্রায় ৮০০ ও পুরুষ ও নারীর ওপর পরিচালিত এক নিরীক্ষায় দেখা যায়, ৮৬ শতাংশ মানুষের রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ গৃহীত মাত্রার চেয়ে কম। করোনার এই মহামারির সময় বয়স্ক নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ডাক্তার–বিজ্ঞানীদের এই ব্যাপারে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

(লেখক: আরমান রহমান, এমবিবিএস, এমপিএইচ, পিএইচডি, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড থেকে)

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

    অনুসরন করুন